ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে ... ব্যতিক্রম কখনো উদাহরণ হতে পারে না -

এখন কমন একটা আক্ষেপ - আওয়ামীলীগ সহ এর বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনে জামায়েত, সুবিধাবাদী, ভিন্ন মতের সংগঠনের লোক দিয়ে ভরে যাচ্ছে। যাদেরকে হাইব্রিড বলা হচ্ছে  যারা আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক আছেন তাদের উচিৎ দলের নেতা কর্মীদের এই আক্ষেপ গুলো খতিয়ে দেখা। কেন এই আক্ষেপ? কেন এই অভিযোগ উঠছে? বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় আনা উচিৎ।
রাজনৈতিক চর্চার ভিতর একটা বড় সাফল্য ভিন্ন মতাদর্শের কাউকে নিজ দলে ভেড়ানো। নিজ মতাদর্শের অনুরক্ত করা। কেউ নির্ধারিত কোন রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে জন্মোয় না। কাউকে না কাউকে অনুসরণ করে বিভিন্ন মতাদর্শে বিশ্বাসী হয়ে উঠে। আওয়ামীলীগ বিরোধী মতাদর্শে বিশ্বাসী দলে দেশের একটা সংখ্যক তরুণ প্রজন্ম রয়েছে। এদের কি আমরা উপেক্ষা করব? অবশ্যই না। নিজের মতাদর্শ প্রচার এর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। মানুষের মত পরিবর্তন হতেই পারে। তবে সব সময় সাবধান থাকতে হবে এই সব নেতা কর্মীদের থেকে।
এই সব ভিন্ন মতাদর্শের যারা আওয়ামী লীগ সহ এর বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনে যোগদান করবে তাদের কে কমপক্ষে দশ বছর পর্যবেক্ষণে রাখা উচিৎ। অন্য দল থেকে যারা আসবে তারা নানা পরীক্ষার মাঝে দলের প্রতি আস্থা বিশ্বাসের প্রমাণ দিতে হবে। দল পরিবর্তন করে আসলো আর তাদেরকে বড় বড় পদ দিয়ে দিলাম এটা কাম্য না। এতে সত্যিকারের আওয়ামীলীগের নিবেদিত নেতা কর্মীরা উপেক্ষিত বঞ্চিত হবার সম্ভাবনা থেকে যায় এবং এতে ক্ষোভ দেখা দেয়। বিশ্বাস গুলো নড়বড়ে যায়। যা দলের জন্য কোন সুফল বয়ে আনে না। যারা নিজেদের উপেক্ষিত পদ বঞ্চিত মনে করেন তাদেরকেও নিজেদের ঘাটতি কোথায়? সমস্যা কি? কেন এমন হল? সব বিষয়ে বিশ্লেষণ করা উচিৎ। সমস্যাগুলো খুঁজে বের করতে হবে। সেগুলো সংশোধন করে দ্বিগুণ উদ্যমে দেশ দলের ভালো জন্য নিজেকে উজার করে দিতে হবে। দলের উন্নয়ন মূলক ভালো কাজগুলো প্রচার করতে হবে। তেমনি ভাবে মন্দ কাজগুলোর কঠোর সমলাচোনা করি। শুধু জি হুজুরের ভিতর থাকা যাবে না।
অনেকে আবার উদাহরণ দেয় – “উমুকের বাপ জামাত করে ছেলে সত্যিকারে আওয়ামীলীগকে ভালবাসে দেশকে ভালবাসে আমাদের মনে রাখতে হবে ব্যতিক্রম কখনো উদাহরণ হতে পারে না।
বিষধর সাপের ডিম হতে বিষধর সাপই জন্মে। আবার একজন দক্ষ সাপুড়ে এই সব বিষধর সাপ দিয়ে খেলাও দেখায়। আসুন আমরা নিজেদেরকে দক্ষ সাপুড়েতে পরিণীত করি। আর সাপের বিষকে জন কল্যাণ মূলক কাজে ব্যবহার করি। শত্রু থাকবেই এর মাঝেই নিজেকে প্রমাণ করাই হল সত্যিকারে চ্যালেঞ্জ। চ্যালেঞ্জ গ্রহন করুন নিজেকে প্রমাণ করুন আর জয় বাংলা বলে পূর্ণ গতিতে এগিয়ে চলুন।

সাধুসাবধান!! 
--------------- 
বিষধর সাপের বিষ দাঁত না ভেঙ্গেই খেলা দেখানো কি উচিৎ? দুধ কলা দিয়ে কাল সাপ পোষার চেষ্টা না করাই কি সর্ব উত্তম নয়? দল বদলের খেলায় দল কতোটুকু লাভবান হচ্ছেমুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের প্রজন্ম কি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না? কেন এই সব খান পাঠানদের ছেলে - উমুক তুমুকদের দলে ভেড়ানো হচ্ছেকেন বারবার বিতর্কিত লোকদের দলে নেয়া হচ্ছে ? কিছু হলেতো ৭৫এর মতো সব নেতারা পেছনের দরজা দিয়ে পালাবেন।সাধারণ তৃণমূল কর্মীদের কথা কি একবার চিন্তা করেছেন কেউতৃণমূল এসব কর্মীর বিপদে কেউ এগিয়ে  আসেনা। যারা দলের মন্দ থাকে সময়ে। দয়া করে বন্ধ করুন এসব অনিয়ম। দল হিসেবে কি আওয়ামীলীগ এতোই দেওলিয়া হয়ে গেছে যেরাজাকার নিয়োগ দেয়া ছাড়া চলছে না? আপনার এসব করতে পারেন না ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে - দলে এই সব রাজাকারদের পুনর্বাসন করার জন্য নয়। কেন আমাদের এই দেশ প্রেমিক প্রজন্ম বারবার এইসব পুনর্বাসিত রাজাকারদের দ্বারা অপমানিত হবে? এভাবে চললে একদিন আপনারাও মোশতাকদের মতো ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন। সাধু সাবধান।। 
----------

Comments

Popular posts from this blog

" আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি " -

ধর্মের নামে ভন্ডামি ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে

রুদ্রাক্ষ - এক দুর্লভ বস্তু।