আমরা সবাই স্বাধীনতা বিরোধীদের পরাজিত শক্তি বলি। আসলেই কি তারা পরাজিত ??

পরাজিত শক্তি। পরাজিত বলাটা ঠিক হবে না - এরা বিজয়ী। এরা ওদের পরিকল্পনা মোতাবেক এগিয়েছে এবং ধীরে ধীরে তা অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করেছে। ধর্মকে ব্যবহার করছে। শিক্ষিত, অশিক্ষিত, ধনী, দরিদ্র সব পেশার মানুষকে তারা তাদের আদর্শকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছে। যে সংখ্যাটা নেহাত কম না। তার রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেছে। আমার হৃদয় পতাকা নিয়ে খেলেছে। রাজনীতিতে তারা সফল।

এই দায় কেউ এখন স্বীকার করে নিতে চায় না। কিন্তু এই দায় কি আমরা এড়িয়ে যেতে পারি ? দায় এড়ানো মাসুল আমাদের বারবার দিতে হয়েছে। কেন আমরা এই সব রোধ করতে পারি নাই ? কি কি দুর্বলতা আছে আমাদের? কেন মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা আজ পথহারা? একাত্তরে যেখানে জাতির ভিতর ঐক্য ছিল এখন কেন এতো বিভেদ? কেন আজ স্বাধীন দেশে স্বাধীনতা বিরোধীরা দিন দিন এতো শক্তিশালী হচ্ছে? কেন আমরা বিরাট সংখ্যাক একটা তরুণ প্রজন্মের ভিতর স্বাধীনতা বীজ বপন করতে পারি নাই? কেমন করে আমাদের ভিতর এই সব স্বাধীনতা বিরোধীরা মিশে আছে? আমাদের ভেতর কারা তাদের প্রশ্রয় দিচ্ছে? এই রকম অনেক কেনর সামনে আজ আমরা দাঁড়িয়ে।

সময় হয়েছে নিজেদের দুর্বলতাগুলো অনুসন্ধান করার। নিজেদের ইতিহাস গুলো পর্যালোচনা করার দরকার। কার কি ভুমিকা ছিল স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে। নিজেদের আত্মবিশ্লেষণ করতে হবে। আমাদের ভিতর আগে শুদ্ধতা পরিচালনা করতে হবে। আমাদের ভিতর আমাদের মতো দেখতে স্বাধীনতা বিরোধীরা ঘুমিয়ে আছে (sleep sense suicide squad) এদের সনাক্ত করতে হবে। এরা যদি জেগে উঠে - সে বিপর্যয় হবে খুব ভয়াবহ। মাঠ পর্যায়ে স্বাধীনতা বিরোধী কর্মীদের দিকে নজর দারী বাড়াতে হবে। সবাইকে সর্তক থাকতে হবে। পঞ্চ ইন্দ্রিয় খোলা রাখতে হবে। সব অসঙ্গতি গুলো লক্ষ্য করতে হবে।

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর বের করতে না পারলে বারাবার ১৫ আগষ্টে , ২১ আগষ্ট ফিরে আসবে।

Comments

Popular posts from this blog

" আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি " -

ধর্মের নামে ভন্ডামি ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে

রুদ্রাক্ষ - এক দুর্লভ বস্তু।