ইসলাম ও অমুসলিম

= কিছু আয়াত, হাদিস, ঘটনা =
সূরা আত তাওবাহ - আয়াত ৬ - "আর মুশরিকদের কেউ যদি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দেবে, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়, অতঃপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌছে দেবে। এটি এজন্যে যে এরা জ্ঞান রাখে না।"
------------------
সুরা বাকারা - আয়াত ২৫৬ " দীন গ্রহণের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি নেই"।
-------------------
সহিহ বোখারি : ৬/২৫৩৩ - "যে ব্যক্তি কোনো অমুসলিম নাগরিককে হত্যা করবে, সে জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না; অথচ জান্নাতের সুগন্ধি চল্লিশ বছরের দূরত্বে অবস্থান করেও অনুভব করা যাবে"।
----------
সূরা সূরা আল মুমতাহিনা - আয়াত ৮ - "ধর্মের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেনি এবং তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিস্কৃত করেনি, তাদের প্রতি সদাচরণ ও ইনসাফ করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফকারীদেরকে ভালবাসেন।"
---------------
সুনানে আবু দাউদ : ২/৪৩৩' - "জেনে রাখো, যে ব্যক্তি কোনো অমুসলিম নাগরিক বা সংখ্যা লঘুকে আঘাত করে বা তাকে অপদস্থ করে অথবা কর্মচারী নিয়োগ করে তার সাধ্যের বাইরে কাজ চাপিয়ে দেয়, আমি তার বিরুদ্ধে কেয়ামতের ময়দানে আল্লাহর দরবারে মামলা দায়ের করব।"
---------------------
আবু দাউদ - নবী করীম (সা:) বলেন "যে লোক কোন জিম্মিকে (অমুসলিম) কষ্ট বা জ্বালা-যন্ত্রণা দিল, সে যেন আমাকে কষ্ট ও জ্বালা-যন্ত্রণা দিল। আর যে লোক আমাকে জ্বালা-যন্ত্রণা ও কষ্ট দিল, সে মহান আল্লাহকে কষ্ট দিল।’ ‘যে লোক কোন জিম্মিকে (অমুসলিম) কষ্ট দিল, আমি তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরকারী। আর আমি যার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরকারী, তার বিরুদ্ধে কিয়ামতের দিন আমি মামলা লড়বো।"
----------
তারিখুর রাসুল ওয়াল মুলুক, তারিখে তাবারি, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃ. ৪৪৯ - অমুসলিমদের অধিকার নিয়ে হজরত ফারুকে আযম (রা.) বায়তুল মুকাদ্দাসের খ্রিস্টানদের একটি উত্তম সংবিধান লিখে দিয়েছিলেন। তাতে বলা হয়েছে, "'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। এটি একটি নিরাপত্তা সংক্রান্ত চুক্তিনামা, যা মুসলমানদের আমির, আল্লাহর বান্দা ওমরের পক্ষ থেকে স্বাক্ষরিত হলো, এ চুক্তিনামা ইলিয়্যাবাসী তথা জেরুজালেমে বসবাসরত খ্রিস্টানদের জানমাল, গির্জা-ক্রুশ, সুস্থ-অসুস্থ তথা খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য প্রযোজ্য। সুতরাং চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর তাদের উপাসনালয়ে অন্য কেউ অবস্থান করতে পারবে না। তাদের গির্জা ধ্বংস করা যাবে না। এবং কোনো ধরনের ক্ষতি সাধন করা যাবে না। তাদের নিয়ন্ত্রিত কোনো বস্তু, তাদের ধর্মীয় প্রতীক ক্রুশ ও তাদের সম্পদের কোনো ধরনের ক্ষতি সাধন বা হামলা করা যাবে না।"
--------------
ফতোয়ায়ে হক্কানিয়া : ৫/৪৮৫ - হজরত ওমর ইবনে আবদুল আজিজ (রা.)-এর শাসনের আগে খ্রিস্টানদের একটি গির্জা ভেঙে মুসলমানরা মসজিদ বানিয়েছিল। ওমর ইবনে আবদুল আজিজ (রা.) খেলাফত গ্রহণের পর খ্রিস্টানরা এ অভিযোগ নিয়ে খলিফার দরবারে গেলে তৎক্ষণাৎ এক ফরমান পাঠিয়ে খ্রিস্টানদের গির্জা যেভাবে ছিল, ঠিক সেভাবে তৈরি করে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর (রা.) 'হীরা' নামের স্থানের সংখ্যালঘু খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে নিরাপত্তাসংক্রান্ত যে চুক্তি করেছিলেন, তাতে বলা হয়েছে- 'তাদের গির্জা তথা ধর্র্মীয় উপাসনালয় ধ্বংস করা যাবে না এবং তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া যাবে না। এবং ঘণ্টা বাজানো থেকে তাদের নিষেধ করা যাবে না। ধর্মীয় উৎসব উদ্‌যাপনের সময় ধর্মীয় প্রতীক ক্রুশ বের করাতে বাধা দেওয়া যাবে না।
------------
ফুতুহুল বুলদান, পৃ. ৭১ - মদিনার ইহুদিরা সব সময় ইসলামের বিরোধিতা করত, তথাপি রাসুল (সা.) তাদের ধর্ম পালনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেননি। একবার মদিনার মসজিদে বসে নবী (সা.) নাজরান থেকে আগত একটি খ্রিস্টান প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন। আলোচনার বিরতিতে তারা স্ব-ধর্ম অনুসারে প্রার্থনা করার অনুমতি চাইলে নবী (সা.) তাদের মদিনার মসজিদে প্রার্থনা করার অনুমতি দেন।
----------------------
উপরের আয়াত হাদিস ঘটনা একটাও আমার নিজের রচনা বা লেখা নয়। এমন অসংখ্য কোরানের আয়াত, হাদিস , ঘটনা আছে অমুসলিমদের অধিকার নিয়ে। ইসলামে সাম্প্রদায়িকতার স্থান নেই। অমুসলিমদের জন্য ইসলাম বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। উপরে আয়াত হাদিস থেকে এইটাই প্রমাণিত - আল্লাহতালা এবং নবী করীম (সা:). খুব কঠোর ভাষায় মুসলমানদের নসীহত করেছেন - অমুসলিমদের অধিকারের বিষয়ে। সেই নসীহতের বিরোধিতা বা লংঘন করলে আল্লাহর অসন্তোষ অবধারিত।
-------------
এখন বলেন আপনি যদি কোরআন হাদিস নবী করীম (সা:) এর কথা অমান্য করেন তবে কি আপনি মুসলমান?? আদেশ নির্দেশ অমান্য করবার পরও আপনি বলবেন আপনি মুসলিম?? আমাদের কে ইসলামের উদারতা ও ইনসাফকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করবার প্রবণতা পরিত্যাগ করতে হবে। কখনোই বিধর্মীকে অনর্থক কথা বলে, তার ধর্মের উপর কুঠারাঘাত করে, তার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নিয়ে তামাশা করে তাকে কষ্ট দেয়া সমীচীন নয়। এসব করলে আপনার বিরুদ্ধে রোজ কিয়ামতে নবী করীম (সা:) স্বয়ং নিজে স্বাক্ষর দিবেন। অমুসলিমদের মন জয় করুণ ভালবাসা, হিকমাত আর প্রজ্ঞার মাধ্যমে। অমুসলিমদের রক্ষা করা একজন মুসলিমের ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব।
-------------
নিজ দেশের সংখ্যা লঘু ধর্মাবলম্বীদের অপমান অত্যাচার হত্যা কতটুকু সমীচীন তা খুব গভীর ভাবে চিন্তার বিষয়।যারা সংখ্যা লঘুদের মানসিক, শারীরিক, অর্থনৈতিক ইত্যাদি  ভাবে আপমানীত, লাঞ্ছিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ। তা না হলে অনেকে বুঝে না বুঝে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করবে। যা দেশ জাতির জন্য কল্যাণকর হবে। আমাদের এ বিষয়ে কঠোর এবং সতর্ক থাকতে হবে।
--------------------
সবাই ভালো থাকবেন আসুন সুন্দর একটি অসাম্প্রদায়িক বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলি।
"আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম
আমরা আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম
গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু মুসলমান
মিলিয়া বাউলা গান আর মুর্শিদি গাইতাম"

Comments

Popular posts from this blog

" আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি " -

ধর্মের নামে ভন্ডামি ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে

রুদ্রাক্ষ - এক দুর্লভ বস্তু।