সন্ত্রাসী হিসেবে নয় প্রমাণ করি সভ্য সম্প্রদায় হিসেবে
আধুনিক বিশ্বে মানব ইতিহাসে যারা ভুমিকা রেখেছেন - রাখছেন তারা কারা? চিকিৎসা শাস্ত্রে যারা মাইলফলক রেখেছেন - রাখছেন তারা কারা? নোবেল পুরস্কার বিজয়ী কারা (মুসলমানরা ৫ টি নোবেল পুরস্কার পেয়েছে)? বিশ্বে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ব্যক্তি কারা? বিশ্বের দানশীল ব্যক্তি কারা? শিক্ষার হার কাদের বেশী? জ্ঞান বিজ্ঞানে কারা এগিয়ে আছে? সব গুলো প্রশ্নের উত্তর বা পরিসংখ্যান দেখলে মুসলিমদের চিত্র খুব ভয়াবহ। তুলনামূলক ভাবে মুসলমানরা অন্য ধর্মের লোকদের হইতে যোজন যোজন পিছিয়ে আছে।
ধর্ম অন্ধ মুসলিমরা - গর্বের সাথে বলে দুনিয়ায় এত সফলতা দুনিয়াদারী মুসলিমদের কাম্য নয় বরং আখেরাতের সফলতা পেতে মনোনিবেশ করাই মুসলমানদের কর্তব্য। দুনিয়াদারী করতে গিয়ে কি আখেরাত হারাব!! আমাদের মুসলিমদের এই ধারণাটা কতো টুকু সঠিক? গভীর ভাবনার বিষয় বটে। আল্লাহ তো তাঁর বান্দাকে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যান চাইতে শিখিয়েছেন। সূরা আল-বাক্বারা , আয়াত ২০১ এ উল্লেখ আছে - "হে আমাদের রব, আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দিন। আর আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদেরকে আগুনের আযাব থেকে রক্ষা করুন"। আবার সূরা রা’দ, আয়াত ১১ এ উল্লেখ আছে - "আল্লাহ কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত না তারা তাদের নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে"।
আল্লাহ মুসলিমদের সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ না করতে বলেছেন। পৃথিবীতে শক্তিশালী সম্প্রদায় হিসাবে যদি মুসলমানরা দাড়াতে না পারে তবে মন্দ কাজ হতে কি ভাবে নিজেদের দূরে রাখবে? মারামারি হানাহানি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দিয়ে নয় - মুসলিমদেরকে জ্ঞান-বিজ্ঞানে অগ্রসর হতে হবে। বিশ্ব জয়ের উদ্দেশ্যে নয় বরং সম্প্রদায় হিসাবে নিজেদেরকে স্মার্ট ও বুদ্ধিমান প্রমান করে পৃথিবীর বুকে সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করতে হবে। আদর্শ সম্প্রদায় হিসাবে নিজেদের অস্থিত্ব রক্ষার স্বার্থে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে দুনিয়াদারীতে মনোযোগী হতে হবে। আসুন নিজেদের সন্ত্রাসী হিসেবে নয় প্রমাণ করি সভ্য সম্প্রদায় হিসেবে।
সুশিক্ষিত আলোচনার জন্য অনেক ধন্যবাদ ।
ReplyDelete