অল্প একটু জামায়েত

১৯৫৩ সালে পাকিস্তানে কাদিয়ানীদের বিরুদ্ধে ও সরকারের কাছে নানা দাবি জানিয়ে - চাপে ফেলতে একটি অরাজনৈতিক ইসলামিক দল "তাহরিক ই খতমে নবুয়ত" আন্দলন শুরু করে। এরা সহিংস রক্তত্ব আন্দোলন শুরু করে। এ সবের মূল পরিকল্পনায় ছিল জামায়াতে ইসলামী। সঙ্গী হিসেবে ছিল মুসলিমলিগের উগ্রপন্থীরা। ১লা ফেব্রুয়ারী ১৯৫৩ সালে পাকিস্তানে একজন আহমেদিয়া সম্প্রদায়ের  কবর দেয়া নিয়ে শুরু হয় ভয়াবহ দাঙ্গা। এ দাঙ্গার ফলে ১৯৫৩ সালে ৪মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনী মার্শাল ল জারি করে। এ সময়ে সামরিক আদালতে দাঙ্গা লাগানোর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে জামাতের প্রতিষ্ঠাতা সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদুদীকে মৃত্যুদন্ডের দন্ডিত করে। কিন্তু সে সময় পাকিস্তানে কমিউনিজমের প্রসার রোধ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দরকার ছিল ইসলামী দল গুলোর সমর্থন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ও সৌদিআরবের চাপে পরে মওদুদীর মৃত্যুদন্ড মওকুফ হয়     
----------------------
জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গে -  ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিল। জামায়াত এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনদের সাথে নিয়ে পাকিস্তান আর্মিদের পূর্ণ সহযোগিতায় গণহত্যা সহ সর্বপ্রকার মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে। ইতিমধ্যে ১৯৭১ এর সংগঠিত যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতের অনেক নেতারদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সরকার। কারো সাজা হয়েছে আমৃত্যু কারাদণ্ড। কিছু আছে বিচারাধীন। কিছুর চলছে তদন্ত কাজ। ২০১৩ সালের ১ আগস্ট মাসে  বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এক রুলের রায়ে জামায়াতের নিবন্ধন নিবন্ধন অবৈধ এবং নির্বাচনে অংশগ্রহনের অযোগ্য ঘোষণা করে।
--------- 
বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর ১৯৭২ এর সংবিধানের ৩৮ ধারা মোতাবেক সাম্প্রদায়িকতা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহার নিষিদ্ধ - থাকায় জামায়াতে ইসলামী দলটি বিলুপ্তি হয়ে যায়। বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যাকাণ্ডের পর - ১৯৭৬ সালে আবদুর রহীমের নেতৃত্বে ইসলামিক ডেমোক্র্যাটিক লীগ (আই.ডি.এল) নামে একটি রাজনৈতিক দল যাত্রা শুরু করে। এ দলের নামের আড়ালে মূলত জামায়াতের সদস্যরা প্রকাশ্য রাজনীতিতে আবার সক্রিয় হয়। ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন জামায়েতের নেতারা ইসলামিক ডেমোক্র্যাটিক লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে ৬ টি আসনে জয় লাভ করে। এবং জিয়াউর রহমান ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিলে ১৯৭৯ সালের মে মাস হতে আব্বাস আলী খানের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এর আবার যাত্রা শুরু হয়। পরে দলটির নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী    
 
আর এভাবে জিয়া বাংলাদেশে জামায়াতকে পূর্ণ প্রতিষ্ঠত করে। আর এর মাঝ দিয়ে সমাজে ছড়িয়ে পরে ধর্মের নামে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প। ভুলন্ঠিত হয় ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত - বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন স্বাধীনতার মূল চেতনা "বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র। অসাম্প্রদায়িক বাঙালি গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র।   
------------------------
সর্বশেষঃ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদুদীর ছেলে সাইয়েদ হায়দার আলী মওদুদী এক সাক্ষাৎকারে মিডিয়ার সামনে অনেক অজানা তথ্য দিয়েছ এর মাঝে একটি হল - হায়দার আলী মওদুদী সহ তার অন্য নয় (৯) ভাই কাউকে জামায়েতের রাজনীতির সাথে জড়াতে দেয় নাই তাদের পিতা জামাতের প্রতিষ্ঠাতা সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদুদী। এমন কি জামায়াতের কোনো বইপত্র পড়তে দেয়নি তাদের পিতা জামাতের প্রতিষ্ঠাতা সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদুদী।

দুঃখ জনক বিষয় জামাতের প্রতিষ্ঠাতা সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদুদী নিজের সন্তানদের দিয়েছে আধুনিক শিক্ষা - নিরাপদ জীবনের জন্য পাঠিইয়েছ পশ্চিমা দেশেআর এদিকে ইসলামী আন্দোলনের নামে দেশের লক্ষ ধর্মপ্রান মেধাবী যুবককে অন্ধকার সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ভিতর ঠেলে দিয়েছে। করেছে বিপথগামী।   

Comments

Popular posts from this blog

" আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি " -

ধর্মের নামে ভন্ডামি ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে

রুদ্রাক্ষ - এক দুর্লভ বস্তু।